মানসিক অবস্থার বিভিন্ন দিক ও লক্ষণ: ডিপ্রেশন

 



মানসিক অবস্থার বিভিন্ন দিক ও লক্ষণ

  • মেজাজের চরম ওঠানামা: এক মুহূর্তে খুব খুশি, তো পরের মুহূর্তেই উদাসীন। সকালে হয়তো ভালো লাগছে, কিন্তু বিকেলেই মন খারাপ। আজ আনন্দে আছে, কাল হয়তো গভীর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে।

  • জীবনের উপলব্ধিতে অসামঞ্জস্য: জীবনের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে না পারা। কখনও মনে হয় জীবন মূল্যহীন বা অর্থহীন, আবার কখনও ভাবে 'এই তো বেশ আছি, ভালো আছি।'

  • বিমর্ষতা ও অর্থহীনতা বোধ: জীবনের প্রতি এক ধরণের বিতৃষ্ণা বা গভীর উদাসীনতা। মনে হয়, জীবনে অনেক কিছু পাওয়ার বা করার সুযোগ ছিল, যা আর হলো না। ফলস্বরূপ, বর্তমান জীবনকে অর্থহীন মনে হয় এবং কেবল বোঝা বয়ে চলার অনুভূতি হয়, যার শেষ জানা নেই।

  • সমালোচনায় চরম প্রতিক্রিয়া: কারো কাছ থেকে ইতিবাচক কথা শুনলে ঠিক থাকে, কিন্তু সামান্য বিরূপ সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্য শুনলেই দ্রুত মেজাজ হারিয়ে ফেলে বা মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

  • শারীরিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন: শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া (কেমিক্যাল চেঞ্জ) এবং অকারণে বা অযৌক্তিকভাবে শরীরকে কষ্ট দেওয়া।

  • মানসিক ভীতি (ফোবিয়া): নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে তীব্র ও অযৌক্তিক ভয়।

  • নির্দিষ্ট আতঙ্ক ও উদ্বেগ: অন্ধকার, কোনো নির্দিষ্ট জন্তু, পোকা, জল বা আগুন নিয়ে ভয় অথবা এক ধরণের অজানা আতঙ্ক। এর সাথে বারবার হাত-পা ধোয়া, স্নান করা, অতিরিক্ত ঘ্যানঘ্যান করা ইত্যাদি আচরণ দেখা যেতে পারে। অহেতুক দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা, সামান্য কিছুতেই খুব ঘাবড়ে যাওয়া বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার প্রবণতা।

  • কাজের প্রতি অনীহা ও ক্লান্তি: কাজ করার আগ্রহ বা উৎসাহের অভাব। অল্প বয়সেই অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা। কাজ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল ইচ্ছার অভাবে কিছু করতে না চাওয়া। অলসতা যেন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলছে। খেলাধুলা বা পড়াশোনার মতো ক্ষেত্রেও এমন উৎসাহের অভাব দেখা গেলে এটি বিষণ্নতার লক্ষণ হতে পারে।

  • দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ হারানো। স্নান করতে না চাওয়া, খাবার খেতে অনিচ্ছুক থাকা, এমনকি নোংরা পোশাকেই থাকতে পছন্দ করা। এমন অবস্থায় বুঝতে হবে ব্যক্তি সম্ভবত বিষণ্নতায় ভুগছেন।

  • ঘুমের অভ্যাসে তারতম্য: ঘুমের ক্ষেত্রে চরম ব্যতিক্রম দেখা দেওয়া—কখনো প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম ঘুমানো, আবার কখনো সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে ভালো লাগা।

Comments